মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চা

প্রকাশের সময়: ৬:৩০ অপরাহ্ণ - বুধবার | নভেম্বর ১১, ২০২০

লেখিকা

currentnews

এক সময় ধর্ষণ শব্দটি উচ্চারণ করতেও আমাদের জিহ্বা যেন আড়ষ্ঠ হয়ে যেত। এখন ধর্ষণ নামক এই অশুভ শব্দটির কবলে পড়ে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস যেন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে, ধর্ষণের যেন এক মহামারি চলছে দেশে। ঘরে-বাইরে মেয়েদের জীবন আজ বিপন্ন। খবরের কাগজ, টিভি, রেডিও সব জায়গাতেই কেবল ধর্ষণের খবর, ধর্ষণের পর মেরে ফেলার খবর। বাংলাদেশের অগনিত মেয়ে শিশু, কিশোরী, যুবতী বা মধ্যবয়সী ধর্ষিতা নারী এখন এই মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার মনের শক্তি বেশী বা পরিবার ও অন্যদের থেকে সাহস পাচ্ছে সে যুদ্ধ করছে; যার মনের শক্তি কম বা কারো থেকে কোনো সহানুভূতি বা মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না সে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকার খুব দ্রুততার সাথে ধর্ষণ নামক মহামারি রোধ করার লক্ষ্যে সকল মানুষের জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদশ জারি করেছে। এটি অবশ্যই একটি মহৎ উদ্যোগ, আর এটা সময়েরও দাবি ছিল যা সরকার দ্রুত পালন করেছে। কিন্তু তারপরও কথা থাকে যা নিয়ে সুধীজনেরা নানা কথা বলছেন বিভিন্ন জায়গায়। আইন দিয়ে কখনো সমাজ থেকে অপরাধ একেবারে নির্মূল করা যায়নি, যায় না; তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাও সব সময় করা যায় না।

মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারির পরও ধর্ষণ কিন্তু থেমে নেই। তবুও ধর্ষণ প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই বলেই অধ্যাদেশ জারি করতে সময় নেননি। মানুষের মন যখন আপাদমস্তক কলুষিত হয়ে যায় তখন তার মানবিক অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়; আইন বা শাস্তির ভয় বা সমাজের নিকট অপদস্ত হওয়ার কোনো ভয় তখন আর কাজ করে না তার মনে। আর ধর্ষণ তো একটি জান্তব বা পাশব প্রবৃত্তি। এই জান্তব প্রবৃত্তি যখন তার মাথায় চাড়াও হয়, তখন সে তো আর মানুষ থাকে না। ধর্ষক আসলে পশুর থেকেও অধম, তাকে পশুর সাথে তুলনা করলে পশুকেও অপমান করা হয়। ধর্ষক একবারও ভাবে না যে এই ঘটনা তার মা-বোন স্ত্রী বা অন্য কোনো নারী আত্মীয়ের জীবনে ঘটলে তার কেমন লাগতো! যারা ক্ষমতা দেখিয়ে এ নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের আশ্রয় দেন তারাও একবার ভাবেন না যে, এ বর্বরতম ঘটনা তার কোনো আপনজন বা স্বজনের ক্ষেত্রে ঘটলে তারা কি এদের আশ্রয় দিতেন! আবার এ ধরনের জঘন্য ঘটনার সত্যতা জেনেও যে সব আইনজীবী ধর্ষকের পক্ষে লড়েন তাঁরাও কি একবারও ভাবেন যে, এ ধরনের ঘটনা তার মেয়ে বোন মা বা অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটলে তিনি কি ধর্ষকের পক্ষে লড়তেন না শাস্তি চাইতেন! মনের দৈন্যতা থেকে বের হতে না পারলে, নারীকে সম্মান দিতে না শিখলে কেবল আইনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ রোধ করা যাবে না। কারণ ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা না হলে সাজা প্রদানের কোনো প্রশ্নই আসে না। হেনস্তা হওয়া ও মান-সম্মানের ভয়ে বেশীরভাগ নারী বা তাদের পরিবার মামলা করে না। কারণ ধর্ষিতা কোনো অপরাধ না করলেও মানুষ তার দিকেই আঙ্গুল তুলে দেখায় যেন সেই অপরাধী, ধর্ষক নয়। আর সমাজের মানুষেরা জেনে বুঝে ধর্ষিতাকেই আক্রমণ করে, অপদস্ত করে, একঘরে করে, তার স্বাভাবিক জীবনে বাধা সৃষ্টি করে। এ সব কিছু থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার মূল্যবোধ নীতি নৈতিকতা ও আদর্শবোধের জাগরণ ঘটানো।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ মনোবিদ সমাজবিজ্ঞানী রাজনীনতিবিদ শিক্ষার্থীসহ সমাজের নানা পেশার নানা শ্রেণির মানুষ নিরন্তর লেখালেখি করছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন, অনেক রকম সাজেশন দিচ্ছেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। সবার মূল বক্তব্য- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণই পারে এ ধরনের অপরাধ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করতে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অধপতনের কারণেই এখন মসজিদ-মাদরাসার হুজুর বা গির্জার ফাদাররা পর্যন্ত অহরহ এ জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। সেখানে ভিকটিম কেবল মেয়েরা নয়, ছেলেরাও নানাভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারিভাবে আরো অনেক পদক্ষেপ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। আমি আমার পারিপার্শিকতা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহনের কথা এখানে তুলে ধরছি-

১. মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা করতে হবে ঘর থেকে, শিশুর বুদ্ধি হওয়ার শুরুতেই এবং এটি প্রাথমিক স্কুলের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিশু প্রথম শিক্ষা পায় পরিবার থেকে তারপর স্কুলে। বাড়িতে যদি নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের চর্চা থাকে তবে সে পরিবারের শিশুদের মধ্যেও তা সঞ্চারিত হয়। বাড়িতে বড়রা যদি কখনো মিথ্যা কথা না বলে, মেয়েদের ছোট করে না দেখে সম্মান করে ও ছেলে-মেয়েতে ভেদাভেদ না করে, মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার না করে, কোনো অন্যায় কাজ না করে; তাহলে তার প্রভাব তো ছোটদের উপর পড়বেই। শিশু বড় হওয়ার পরও ছোটবেলার শিক্ষা তাকে অনেক নিয়ন্ত্রণ করে, তার চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়। পরিবারের শিক্ষাই পারে শিশুদের সচেতন, ভাল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।

২. পরিবার থেকে শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সতর্ক হতে হবে। অনেক অভিভাবক ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দেন সময় কাটানো ও খেলার জন্য যা খুবই ভুল সিদ্ধান্ত। এই সব প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠাতারাও তাদের সন্তানদের হাতে একটা গ্রহণযোগ্য বয়স হওয়ার আগে স্মার্ট ফোন তুলে দেননি। স্মার্ট ফোনে শিশুদের নষ্ট হওয়ার সব উপাদানই বিদ্যমান। করোনার এ দুঃসময়ে অনলাইনে পড়ালেখার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল, আইপ্যাড দিতে হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যাতে তাদের সন্তানেরা এর অপব্যবহার না করে।

৩. মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে আমি স্কুলের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছে। কারণ শিশুরা স্কুলের শিক্ষাটাকে অনেক বেশী মূল্য দেয়। তারা অনেক সময় মা-বাবার কথার থেকে বেশী মান্য করে স্কুলের শিক্ষকদের এবং তাঁদের কথা ও উপদেশকে শিশুরা অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়। সেজন্য স্কুলে মূল্যবোধ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

৪. স্কুলের ধর্ম বইতে অনেক ভালো ভালো কথা ও সদুপোদেশ আছে, আছে কোনটি ভালো কোনটি মন্দ সে কথা, আছে পাপ-পুণ্যের কথা। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি অনেক নামী দামি স্কুলেও ধর্ম ক্লাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, আলাদা নীতি শিক্ষাও দেওয়া হয় না। কিন্তু শিশুরা অন্যায় করলে শাস্তি দেওয়া হয়। ন্যায় অন্যায় না বুঝিয়ে শাস্তি দেওয়াটা আরেকটা অন্যায় যা মোটেও কাম্য নয়। প্রতিটি ধর্মের মূল কথাই হলো কিভাবে ভালো মানুষ হওয়া যায় সেই শিক্ষা দেওয়া ও মানুষের কল্যানের পথ নির্দেশ করা। শিক্ষকেরা যদি ক্লাসের ধর্ম বইতে যে সব ভালো ভালো কথা লেখা আছে সেগুলোর মর্মবানীটা (সত্য কথা বলা, মিথ্যা কথা না বলা, মা বাবাকে মান্য করা, গুরুজনের সম্মান করা, খারাপ কাজ না করা, মেয়েদের সম্মান করা, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা ইত্যাদি) শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলেন তাহলে তারা খুব সহজে তা গ্রহন করবে এবং ছোটবেলার শিক্ষার প্রভাব কিন্তু তার জীবনে রয়ে যাবে। এটি সর্বজন স্বীকৃত যে, ছোটবেলার শিক্ষা মনের উপর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।

৫. সমাজবিজ্ঞান বা অন্য বইতেও আলাদা করে আদর্শ মূল্যবোধ নীতি-নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়টি স্কুলের সিলবাসে রাখাটাও এখন সময়ের দাবি ও জরুরি। আমাদের দেশেই মিশনারী স্কুলগুলোতে প্রাইমারি পর্যায়ের ক্লাসে গল্প বলার একটি আলাদা ক্লাস নেওয়া হয়, যেখানে নানা ধরনের নীতিকথা ও মূল্যবোধের গল্প শোনানো হয়, বড় বড় মনিষীদের জীবন কাহিনী শোনানো হয়। উদ্দেশ্য এ সব গল্প শুনে শিশুরা ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা পাবে, যে কোনো ভালো কাজের জন্য তারা উৎসাহিত হবে, অনুপ্রানিত হবে। সেজন্য যদি দেশের প্রতিটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এ ধরনের গল্পের বই পড়ার ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হয়, তারও একটি সুফল অবশ্যই জাতি দেখতে পারে।

৬. আমরা যখন স্কুলে পডেছি তখন সব স্কুলে সপ্তাহের শেষ দিনের শেষ ক্লাসটি ছিল লাইব্রেরিতে বসে যে কোনো বই পড়া ও রেজিস্ট্রারে লিখে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। বই পড়ার এই সুন্দর কার্যক্রম এক সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় যা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটিও সর্বজন স্বীকৃত যে, বই পড়ার অভ্যাস মনকে উন্নত, উদার ও প্রসারিত করে এবং তা শিশু কিশোরদের চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৭. গ্রামে-গঞ্জে জনসচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এর কারণ-গরীব ও অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত পরিবারে নীতিকথা বা মূল্যবোধের চর্চার সুযোগ কম। জীবন-জীবিকার পেছনেই তাদের সময় ব্যয় করতে হয় বেশী। তাছাড়া অল্পবয়সেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে রোজগার করতে যেয়ে এ ধরনের পরিবারের শিশুরা নানা ধরনের বাজে মানুষের সংস্পর্শ এসে জীবনের মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনো ভালো ধারণা পায় না। তাদের বাবা-মা বা আত্মীয় পরিজনেরাও এক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। ফলে এ শ্রেণির কিশোর-যুবকদের একটি বড় অংশ আজ ধর্ষণসহ আরো অনেক অপরাধের সাথে জডিয়ে পড়ছে, দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি জেলায় যদি জেলা প্রশাসনের উদ্দোগে পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মচারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে প্রতি মাসে একটি উপজেলায় জন সচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ড বা জন সমাবেশের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে ইভটিজিং না করা, মাদক গ্রহনের কুফল, অল্প বয়সে মোবাইল ব্যবহারের কুফল, ধর্ষণ যে একটি মারাত্মক রকম অপরাধ ও পাপ কাজ, সেজন্য এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা, মেয়েদের অসম্মান না করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করাসহ নৈতিক মূল্যবোধ জাগরনের জন্য পরিবার ও সমাজের করনীয় কী- এসব বিষয় তুলে ধরা হয় তার একটা প্রভাব মানুষের মনে পড়তে বাধ্য। এটা করা হলে নিম্নবিত্ত দিন-মজুর বা শ্রমিক পর্যায়ের মা-বাবা ও অভিভাবকরাও সচেতন হবেন।

৮. আমাদের সমাজে কেবল কিশোর বা যুব সমাজই নয় সব শ্রেণির মানুষের অধঃপতনের একটি অন্যতম বড় কারণ ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার। এখন ছেলে বৃদ্ধ সবার হাতে মোবাইল ফোন। আর এ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের হাতছানি দেয় খারাপ নোংরা অশ্লীল বাজে ও কুরচিকর সব ভিডিও, ছবি সিনেমা ইত্যাদি। ইউটিউবে যে সব অশ্লীল কুরুচিকর ও আপত্তিজনক ভিডিও আপলোড করা হয় তা সমস্ত শালীনতার বাইরে। শিশু কিশোর তরুণরা ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুক ইউটিউবের অশ্লীল বাজে নোংরামিতে পূর্ণ আপত্তিকর ভিডিও ও কথোপকথন দেখে ভালো কিছু শিখতে পারে না। যে কারণে সমাজে কিশোর গ্যাং বেড়েই যাচ্ছে ও তারা ধর্ষণের মতো অনৈতিক পাপ কাজ করতে উৎসাহ পাচ্ছে। কিশোর ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে নীতি নৈতিকতা আদর্শ পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ও প্রচারের পাশাপাশি ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৯. সামাজিকভাবে ধর্ষককে বয়কট করতে হবে। ক্ষমতাশালীরা যাতে ধর্ষককদের আশ্রয় না দেয় সে বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং এর মতো ধর্ষণ বিরোধী কমিটি করতে হবে পাড়ায় ও মহল্লায়।

আর এ ধরনের কাজ একদিন করলে হবে না, ধারাবাহিকভাবে করতে হবে। সেই সাথে মাইকিং করে লিফলেট ও পুস্তিকা প্রচারের মাধ্যমেও এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। সব পদক্ষেপই সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের সমন্বিতভাবে একই সাথে গ্রহণ করতে হবে। বিষয়গুলি কেবল টেবিল টক বা লেখালেখির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না রেখে এখনি শুরু করতে হবে। মাঠ প্রশাসনের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে চাইলে এ জাগরণ ঘটানো সম্ভব। করোনা মহামারির মধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। তারা যদি সমন্বিত ভাবে সমাজের সকলকে নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তা সফল না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর এটি করলে তা মানুষের মনের জাগরণ ও সমাজ পরিবর্তনের মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। কেবল আইন দিয়ে নয়; সামাজিক, ধর্মীয় ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্ষণের ব্যাপকতা রোধকল্পে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে। মাঠ পর্যায়ে এ সব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করার জন্যও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। জেলা প্রশাসক সবাইকে নিয়ে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে গেলে মানুষও তার সমর্থনে এগিয়ে আসবে। কারণ এ দেশের মানুষ যে কোনো ভালো কাজের জন্য যুদ্ধে নামতে কখনো দেরি করে না। কেবল শুরুটা কাউকে না কাউকে করতে হবে। আর এ দেশের মানুষ সব কাজেই সরকারের ভূমিকাকে বড় করে দেখে। তাই ধর্ষণ রোধকল্পে যে রকম গুরুত্ব দিয়ে আইন সংশোধন করা হয়েছে; সেই সমান গুরুত্ব দিয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রমের শুরুটাও সরকারিভাবেই শুরু করা হলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

লেখক অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব।

আর্কাইভ

বিজ্ঞাপন

https://www.revenuecpmnetwork.com/hsbkfw8q51?key=6336343637613361393064313632333634613266336230363830336163386332

উপরে