বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

জনির চারদিকে শুধুই অন্ধকার

প্রকাশের সময়: ১২:৪১ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ১২, ২০২০

currentnews

বেশ বিপদেই আছেন হলিউড অভিনেতা জনি ডেপ। চারদিকে ঘোর অমানিশা। তার সদ্য সাবেক স্ত্রীই এ বিপদের কারণ। স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় হেরে গেছেন চার বছর আগেই। জরিমানা গুনতে হয়েছে প্রায় সাত মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু কী তাই?
স্ত্রীর কারণে দীর্ঘদিনের প্রিয় ফিল্ম ফ্রাঞ্চাইজি ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ থেকেও সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এ সিরিজের আর কোনো ছবিতে কালো জাদুকর গেলার্ট গ্রিন্ডেলওয়ার্ল্ড চরিত্রে আর দেখা যাবে না তাকে। দিন কয়েক আগে জনি ডেপ নিজেই জানিয়েছেন এ কথা। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, “আমাকে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ ছবির গ্রিন্ডেলওয়ার্ল্ড চরিত্র থেকে অব্যাহতি নিতে অনুরোধ করেছে প্রযোজনা সংস্থা ওয়ার্নার ব্রাদার্স। আমিও তাদের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজি হয়েছি।”

এমন কাণ্ডে স্বভাবতই জনিভক্তরা বেশ নিরাশ হয়েছেন। প্রিয় তারকার অনুপস্থিতিতে এ সিরিজ থেকে জনির ভক্তদের চোখ যে সরে যাবে, এটা নিশ্চিত জেনেও ওয়ার্নার ব্রাদার্স এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তাহলে অতীতে কী ঘটেছিল। একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে আসা যাক।

স্ত্রী হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ডকে নিয়ে ভালোই সংসার করছিলেন জনি ডেপ। কিন্তু সেই ভালো আর ভালো রইল কই? ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৬ সালে জনি ডেপের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে আদালতে ডিভোর্সের আবেদন করেন অ্যাম্বার হার্ড। যদিও স্ত্রীর অভিযোগ আদালতে অস্বীকার করেছেন জনি। তবুও বিচ্ছেদের ধকল সামলাতে তাকে খরচ করতে হয় প্রায় সাত মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিশাল অর্থ খরচ করে তবেই বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন জনি ডেপ। তবে আদালতের কাছে দুজনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জনসম্মুখে আর কোনো ধরনের আলোচনা করবেন না তারা।

কিন্তু সেটা মানেননি অ্যাম্বার হার্ড। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক স্বামী জনি ডেপের বিরুদ্ধে আবারও শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন অ্যাম্বার হার্ড। সে বিষয়টিও পাত্তা দেননি জনি। বিচ্ছেদের এত বছর পর বিরক্ত হয়েছেন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান পত্রিকার প্রতি। ২০১৮ সালে এ সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল “স্ত্রী নির্যাতনকারী জনি ডেপকে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’ সিরিজের নতুন ছবিতে নিয়ে জেকে রাউলিং সত্যিই কীভাবে খুশি হলেন?” এ খবর প্রকাশের পর দ্য সানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন তিনি। গত ২ নভেম্বর আদালত দ্য সানের প্রতিবেদনকে সত্য বলে রায় দেন। ফলে স্ত্রী নির্যাতনকারী প্রমাণিত হন ডেপ। তাই ৫৭ বছর বয়সী এ অভিনেতার সঙ্গে আর কাজ করতে চায়নি ওয়ার্নার ব্রাদার্স। মামলায় হেরে গিয়ে বেশ বিপর্যস্ত জনিকে হারাতে হয়েছে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস’-এর মতো ছবিও।

জনি ডেপের এ বিপর্যস্ত সময়কে অনেকেই আবারও ক্যারিয়ারের জন্যও হুমকি বলে মনে করছেন। হলিউডের সমালোচকরা মনে করছেন, জনি ডেপ একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু মামলায় হেরে যাওয়ায় বক্স অফিসে তার আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে যাবে। তবে হাতে থাকা কাজগুলোর কোনোটি যদি বক্স অফিসে চমক দেখাতে পারে, তাহলেই তার ফিরে আসা সহজ হবে। এমনিতেই হলিউডে তার আধিপত্য শেষ হয়ে আসছিল। মামলায় হেরে যাওয়াটা তার জন্য কফিনে শেষ পেরেক মেরে দেয়ার মতোই হল। তার আগের ভাবমূর্তি আর থাকবে না।

কিন্তু এসব কথা মানতে নারাজ জনি। বরং তার ভক্তরা উল্টো চাল চালছেন। আদালতে পারেননি তো কী হয়েছে। অ্যাম্বার হার্ডের ক্যারিয়ারে তো কিছুটা ছাপ ফেলতে পারবেন। তাই ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ছবি ‘অ্যাকুয়াম্যান টু’ ও ‘জাস্টিস লিগ’ থেকে অ্যাম্বারকে বাদ দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি জানিয়েছেন।

এমনকি ‘অ্যাকুয়াম্যান-টু’ বয়কটের জন্য অনলাইনে পিটিশন চালু করে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন তারা। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই বোধ হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্সও এ ছবি থেকে অ্যাম্বার হার্ডের দৃশ্য এতটাই কেটে ফেলছেন, দেখে মনে হবে কোনো অতিথি শিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। আপাতত এটাই জনি ডেপের জন্য স্বস্তির বিষয়।

উপরে