বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দেশে ব্যাপক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় অর্থনীতি সচল রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | নভেম্বর ২৩, ২০২০

currentnews

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারে এসে সারা দেশে ব্যাপক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে বলেই এখনো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরে তিনটি সেতু এবং পাবনায় একটি স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী করোনার মধ্যে সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, দারিদ্র্যসীমা যেমন আমরা কমিয়ে এনেছি, মাথাপিছু আয় আমরা বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবন মান যে উন্নত করা যায় সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের সুযোগ, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনার ব্যবস্থা, সর্বোপরি অর্থনীতির চাকাটা যাতে সব সময় সচল থাকে সেসব দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েই তার সরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে সরকারে আছি বলেই আজকে আমরা দেশের মানুষের উন্নতিটা করতে পারছি। আমরা কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু করিনি। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে, তখনো কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল। কেননা জাতির পিতা আমাদের যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেখানে দেশের মানুষের উন্নয়নের কথা, মৌলিক চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কাজেই যখনই সরকারে এসেছি পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছি এবং যার সুফল এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন সেগুলো হচ্ছে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতি নদীর ওপর এলাংখালী ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাধীন মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ১০ হাজার মিটার চেইনেজে ৫৭৬ দশমিক ২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু এবং যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথের যশোর-খুলনা সড়কের ভাঙ্গাগেট (বাদামতলা) হতে আমতলা জিসি ভায়া মরিচা, নাউলী বাজার সড়কে ভৈরবের ওপর ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু। তিনটি সেতু মহম্মদপুর, রূপগঞ্জ ও অভয়নগরবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার বলেও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গণভবনের সঙ্গে সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর সংযুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন এবং পাবনা প্রান্ত থেকে স্বাধীনতা চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী বক্তৃতা করেন।

এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রান্তে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রান্তে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীর প্রতীকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, গণমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং উপকারভোগী জনগণ নিজ নিজ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত তিনটি সেতু এবং ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর’-এর ওপর দুটি পৃথক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

শেখ হাসিনা ’৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর প্রবাসজীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে ’৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হলে জোর করে দেশে ফিরে আসেন। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা, ভাই সব হারিয়ে নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আকাঙ্ক্ষার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ করব বলে।

তিনি বলেন, একটাই সিদ্ধান্ত ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই হবে, যা আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন এবং দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেয়ার জন্য নিজের জীবন তিনি উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ায় দেশের জনগণের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, তারা বারবার আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশসেবা এবং তাদের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’

উপরে