শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

পরিস্কার রাখুন কার্পেট

প্রকাশের সময়: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০

currentnews

ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে কার্পেটের জুড়ি নেই। সময়ের সঙ্গে মলিন হয়ে যেতে পারে আপনার সাধের কার্পেট। পোকার আক্রমণ, তেলের ছোপ, যত্নের অভাবসহ বহু কারণে অকালেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বলে তো রোজ রোজ কার্পেট পরিস্কার করা সম্ভব নয়। তাহলে কীভাবে করতে পারেন? কার্পেট কেনার আগে আপনাকে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখতে হবে। যেমন ঘরের মাপ অনুযায়ী কার্পেটের ডিজাইন বেছে নিন। কার্পেট কোন ঘরে রাখবেন তার ওপরও নির্ভর করবে কী ধরনের কার্পেট কিনবেন। ড্রইং রুম, বেড রুম এবং বাচ্চার রুমের কার্পেট আলাদা রকমের হবে। একরঙা কার্পেট সহজেই ময়লা হয়ে যায়। কিন্তু নকশাদার বা ডবল বুনুনির কার্পেট সহজে ময়লা হয় না। তাই বাচ্চার ঘরে রঙিন নকশাদার কার্পেট রাখুন। দেখতেও ভালো লাগবে। বাচ্চার ঘরের জন্য সুতি বা জুটের কার্পেট আদর্শ। কারণ এগুলো প্রয়োজনে সহজেই পরিস্কার করে ফেলা যায়। পিওর উল, সিল্ক্কের কাশ্মীরি বা পারসিয়ান কার্পেট বেছে নিন আপনার বসার ঘরের জন্য। কার্পেটের কোনো কোনো জায়গায় চাপ বেশি পড়ে। যেমন আসবাবের পায়া, সোফাসেট বা সেন্টার টেবিলের সামনে ইত্যাদি। দীর্ঘদিন ধরে চাপ পড়লে কার্পেটের ওই জায়গা পাতলা হয়ে রং চটে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কার্পেট পেতে দিন কার্পেটের ওপর। এতে কার্পেট অনেকদিন ভালো থাকবে। কার্পেটের ধুলা সাফ করতে বছরে অন্তত দুই থেকে তিনবার কার্পেট পিটিয়ে ঝাড়া দরকার। বড় বারান্দা, ছাদ বা লনে কার্পেটটি উল্টো করে পেতে মোটা লাঠি বা কার্পেট ব্রাশের লম্বা হাতল দিয়ে পেটান। ঝাড়া হয়ে গেলে কার্পেটের চারটি কোনা ধরে তুলে আনুন বা উল্টো দিকে রোল করে নিন। তাহলে ধুলাটা বাইরেই পড়ে থাকবে। তবে শখের দামি কার্পেটের ক্ষেত্রে প্রফেশনালের সাহায্য নেওয়াই ভালো।

কার্পেট সাফ করার আরেকটি সহজ উপায় আছে। গোটা কার্পেটে প্রচুর পরিমাণে মোটা দানার লবণ ছড়িয়ে দিন। তারপর শক্ত দাঁড়ার স্টিফ ব্রাশ দিয়ে জোরে জোরে ঘষে সাফ করুন। কার্পেটের জমাট বুনন যেদিকে, সেদিকেই ডাস্টার বা ব্রাশ বেশি করতে হবে। উলের কার্পেট থেকে নতুন অবস্থায় বেশ কিছু রোয়া বেরোতে থাকে। এই কার্পেট খুব জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। ব্রাশের বদলে ভ্যাকুয়াম বা হালকা ঝাড়ন দিয়ে পরিস্কার করা ভালো। সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিষ্কার করুন। এতে ধুলাময়লা জমতে পারবে না। কার্পেটে খাবার পড়ে গেলে খাবার তুলে নিয়ে সেই জায়গায় ভিনেগার বা লেবুর রস ছড়িয়ে নিন। এবার উষ্ণ সাবান-পানি দিয়ে ঘষে নিন। একটা পরিস্কার কাপড় অ্যামোনিয়ায় ভিজিয়ে জায়গাটি মুছে নিন। শুকিয়ে গেলে ডিওডোরাইজার ছড়ান। খাবারের দাগ, গন্ধ পুরোপুরি দূর হবে। কার্পেটের দাগ-ছোপ তোলার জন্য কোনো ক্লিন সলিউশন বা রিমুভার ব্যবহার করার আগে কার্পেটের কোনো একটি কোনায় ক্লিনারটি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখে নিন রং চটে যাচ্ছে কিনা বা কার্পেটের অন্য কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা। নিশ্চিত হলে তবেই ব্যবহার করুন। পুরোনো কার্পেট ফেলে দেবেন না। যে কোনো দর্জিকে দিয়ে মাপমতো কাটিয়ে সেলাই করিয়ে নিন। দরজার সামনে বা বারান্দায় রাখার পাপোশ কিংবা বাথরুম রাগ বানিয়ে নিতে পারেন। আবার আপনার আদরের পোষ্যটির শোয়ার বা বসার আসন করতে পারেন।

কার্পেটে হঠাৎ পানি পড়ে গেলে ঘষাঘষি করে মুছবেন না। সাদা তোয়ালে ৪-৫ ইঞ্চি মোটা থাক করুন। তারপর ওই তোয়ালের থাক কার্পেটের ভিজে জায়গাটির ওপর রেখে ভারী কিছু দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে রাখুন। পানি শুষে নিলে ফ্যান চালিয়ে কার্পেট শুকিয়ে নিন।

উপরে