শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সোফা ছাড়াই ড্রইংরুম

প্রকাশের সময়: ১২:০৩ অপরাহ্ণ - বুধবার | নভেম্বর ২৫, ২০২০

currentnews

ড্রইংরুম আসলে আড্ডা দেওয়ার জন্য আদর্শ ঘর। অনেকেই তাই ভিন্নতা আনতে চেষ্টা করেন এ বসার ঘরটি ঘিরে। ঘরের সাজ কেমন হবে, তা নির্ভর করে ফ্ল্যাট বা বাড়ির আয়তন, লাইফস্টাইল এবং বাজেটের ওপর। বসার ঘরের অন্দরসাজ আমাদের রুচির প্রথম বহিঃপ্রকাশ।

যারা নতুন সংসার শুরু করেছেন, তাদের অনেকেরই বাজেট কম থাকে। তাই অল্পের মধ্যেই মনমতো ঘর সাজাতে চান। আর বাসায় অতিথি এলেই প্রথমেই বসেন ড্রইংরুমে। তাই ওই ঘরটির ইন্টেরিয়র নিয়ে ভিন্ন কিছু করার চিন্তা সবারই থাকে। সময়ের বিবর্তনে বেশ চাহিদা রয়েছে সোফা ছাড়া ড্রইংরুমের। অনেকেই ঘরটাকে নিজের মতো সাজিয়ে থাকেন। এটা অবশ্যই ভালো একটি দিক। এই সময় অনেক বিষয় বাদ পড়ে যায়, যা ঝামেলার কারণ হয়ে পড়ে। যেমন বসার স্থানগুলো মেঝেতে হওয়ায় বয়স্ক কেউ এলে তার বসতে অসুবিধা হতে পারে। এ বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখলেই সোফা ছাড়াই আপনার ঘরটি হয়ে উঠতে পারে উত্তম ড্রইংরুম।

বাড়িতে অতিথি এলে প্রথমে এ ঘরেই তাকে বসানো হয়। বসার ঘর মানেই সোফা, ডিভান, চেয়ার, সেন্টার টেবিলসহ ছোটখাটো সব আসবাব। কিন্তু এসব চিরচেনা আসবাবের বদলে শুধু মেঝেতেই করা যেতে পারে বসার সুন্দর পরিপাটি ব্যবস্থা। সে ক্ষেত্রে সোফার বদলে মেঝেতে ফোম বসিয়ে বা মাদুর, শতরঞ্জি পেতে এর ওপর বড় কুশন দিয়েও বসার চমৎকার আয়োজন করা যেতে পারে। লম্বা আকৃতির একটা ফোম বসিয়ে তার ওপর নকশা করা একটা রঙিন চাদর বিছিয়ে ওপরে কিছু মানানসই রঙের কুশন ছড়িয়ে দিলেই হয়। আর তার সামনেই পেতে দেওয়া যেতে পারে একটা দৃষ্টিনন্দন শতরঞ্জি। এই শতরঞ্জির ওপর একটা কাঠের অল্প উচ্চতার টেবিল বা পিঁড়ি বসানো যেতে পারে টিপিক্যাল সেন্টার টেবিলের বিকল্প হিসেবে।

আবার চাইলে ঘরটির ঠিক মাঝখানে একটু বড় চৌকোণাকার বা বৃত্তাকার কম উচ্চতার সেন্টার টেবিল বসানো যায়। আর তার চারদিকে বড় বড় কুশন দিয়ে বসার বন্দোবস্ত করা যায়। কুশন কভারগুলো দেয়ালের রঙের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বসালেই ভালো। তবে উজ্জ্বল রং আর নকশাদার হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্লক বা বাটিক প্রিন্ট করা কিংবা নকশি কাঁথা কাজেরও কভার হতে পারে। এমনকি ব্যবহার করা যেতে পারে মোটা পাহাড়ি তাঁতের কাপড়ও।

তবে যে ধরনের বসার আয়োজনই করা হোক না কেন, সেন্টার টেবিলের ওপর একগুচ্ছ তাজা ফুল বা বড় পাত্রে পানি দিয়ে ফুলের পাপড়ি কিংবা ক্যান্ডল ভাসিয়ে দিলে পুরো ঘরের আবহটাই বদলে যাবে। চারপাশে অন্দরসজ্জার প্রয়োজন অনুযায়ী রাখা যেতে পারে মাটি, ধাতব বা অন্য উপকরণের শোপিস, টেবিল ল্যাম্প আর সজীব গাছ। এ ঘরটিই তখন হয়ে উঠবে নান্দনিক। মেঝেতে আয়োজনের ক্ষেত্রে দেশি কারুপণ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে পারেন। কারণ দেশি পণ্য যেমন নান্দনিক, তেমনি সহজলভ্য আর সাশ্রয়ীও। সাধের সঙ্গে সাধ্যের মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভবও হবে এসব উপকরণে আপনার বসার ঘরকে সাজিয়ে তুললে। উপরন্তু আপনার সুচিন্তিত, সৃজননৈপুণ্য আর সুরুচি কাড়বে অন্যের সপ্রশংস দৃষ্টি।

একপাশে দিতে পারেন ডিভান। এ ধরনের ইন্টেরিয়রের সঙ্গে ডিভান বেশ মানানসই। আর বয়স্কদের কথাও তো মাথায় রাখতে হবে। তারা নিচু জায়গাতে বসতে পারেন না। আবার অনেকের বিভিন্ন অসুবিধা থাকতে পারে। তাই তারা যেন বিপাকে না পড়ে যান। ডিভান যদি না কিনতে চান, তবে বেতের মোড়া বেশ সহজলভ্য হবে। আর নান্দনিকও বটে। বাজারে বেশকিছু বিনব্যাগ পাওয়া যায়। সেগুলোও বসার জন্য বেশ আরামদায়ক হয়। চাইলে এক কোণায় বা কর্নারগুলোতে বিনব্যাগও দিতে পারেন।

উপরে