বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০

currentnews

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিএলআরআই) নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতটি নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে তদন্ত কমিটি তিনটির সত্যতা পেয়েছে। বাকি চারটি অভিযোগের তদন্তের জন্য অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন প্রাণী উৎপাদন গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও তদন্ত কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল জলিল।
প্রায় সাড়ে সাত মাস পর তদন্ত প্রতিবেদন ১৮ অক্টোবর জমা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএলআরআই। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিএলআরআই’র নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, প্রকল্পের কাজে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্তত ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া হয়।

এছাড়া ওই অভিযোগে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে এটা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে আসার কথা নয়, তাই এ বিষয়ে কোনো কিছু মন্তব্য করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

বিএলআরআই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহারুল আমিন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে চিঠি দেয়ার ৫৪ দিন পর চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রাণী উৎপাদন গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আবদুল জলিলকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, পাশাপাশি কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, যদিও তদন্ত কমিটি প্রায় সাড়ে সাত মাস পর প্রতিবেদন দাখিল করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের কাছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যথাযথ উত্তর না দিয়ে তা কৌশলে এড়িয়ে যান। অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য তার ৫ বছরের ব্যাংক হিসাব বিবরণী দাখিল করতে বলা হলেও তিনি তা করেননি।

অভিযোগে উল্লেখিত সাতটি অভিযোগের মধ্যে তিনটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে পোলট্রি বাউন্ডারি ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন কাজের সঙ্গে বাউন্ডারি বরাবর মাটি ভরাট কাজের নমুনা না পাওয়া গেলেও বিল উত্তোলন করার প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।

এছাড়াও ফরিদপুরের একটি প্রকল্পের বাউন্ডারি ওয়ালের নকশা অনুযায়ী ১২টি রড দিয়ে ঢালাই করার কথা থাকলেও ১২টি রডের স্থলে ৮টি রড ব্যবহার করার চিত্র তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিএলআরআই’র অধীনস্থ বিভিন্ন নির্মাণ কাজের মাধ্যমে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

প্রাণী উৎপাদন গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও তদন্ত কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল জলিল বলেন, অভিযুক্ত নিজ কর্মস্থলে স্বপদে বহাল থাকায় তার অধীনস্থ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রভাবিত হয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ইতস্তত করছেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে অভিযুক্তকে সাময়িক বরখান্ত করে প্রকৌশল কাজে অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগের মাধ্যমে যথাযথ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। তাই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, প্রতিবেদনটি আমাদের কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও এখনও পাঠানো হয়নি, যার কারণে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপরে