বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

এইচএসসির ফল হবে এসএসসির ৭৫ ও জেএসসির ২৫ শতাংশ নিয়ে

প্রকাশের সময়: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০

currentnews

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। মাধ্যমিকের ফলের ওপর ৭৫ শতাংশ এবং নিম্ন মাধ্যমিকের ফলের ওপর ২৫ শতাংশ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হবে শিক্ষার্থীর গ্রেড।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শ্রেণি কাজ না হওয়ায় আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পেছাবে। প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর ন্যূনতম ৩ মাস পরে হবে এ পরীক্ষা।

একই কারণে এবার কোনো স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা হবে না। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে।

বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এ ব্রিফিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি বলেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। তবে তখনও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এতে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

এইচএসসির ফল : এসএসসি, জেএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলের ওপর দেয়া হবে এবারের এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষার ফল। এক্ষেত্রে জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নেয়া হবে।

অর্থাৎ শিক্ষার্থী এইচএসসিতে যে গ্রেড পাবে সেটাতে এসএসসি প্রাপ্ত ফলের ওপর হিসাব করে ৭৫ নম্বর বা গ্রেড দেয়া হবে। বাকি ২৫ শতাংশ আনা হবে জেএসসি থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অতীতের ফল বিবেচনায় নেয়ার এ রেওয়াজ আছে।

সেক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত পরীক্ষার বাইরে একাডেমিক ফলের ওপর যে নম্বর দেয় সেটার ৬০ শতাংশ নেয় এইচএসসি থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ নেয় এসএসসি থেকে।

এ হিসাবে একাডেমিক রেকর্ডে শিক্ষার্থী ১০ নম্বর পেয়ে থাকলে ৬ দেয়া হয় এইচএসসি এবং ৪ এসএসসি থেকে। এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এজন্য আমরা একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করি। তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিয়েছে।

গ্রেড নির্ণয়ের জন্য এসএসসি পরীক্ষা ফলের ওপর ৭৫ শতাংশ জোর (ওয়েটেজ) দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাউবিসহ অন্য ধারা থেকে যারা জেএসসি পরীক্ষা না দিয়ে এইচএসসিতে এসেছে বা যারা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী তাদের ফল তৈরির ক্ষেত্রেও নীতি তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসির ফলের পাশাপাশি পূর্বের পরীক্ষার সম বিষয়ের নম্বরকে গুরুত্ব দেয়া হবে। যেসব বিষয়ে মিল থাকবে না তা কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে সে বিষয়েও প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। কোন পদ্ধতিতে এ ফল তৈরি করা হল তখন বিস্তারিত অবহিত করা হবে।

পেছাবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা : প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়। করোনায় ৯ মাস বন্ধ আছে শ্রেণির কাজ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ছুটি আরও বেড়ে যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন এ পরীক্ষা দুটি পেছাতে পারে বলে ব্রিফিংয়ে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বছর যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা, তাদের জন্য ৩ মাসে শেষ করা যায়- এমন একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এ সিলেবাসের আলোকে আমরা তাদের ৩ মাস ক্লাস করাতে চাই। সে কারণে হয়তো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ২-১ মাস পিছিয়ে যাবে।

ভর্তি পরীক্ষা বাতিল : প্রতি বছর ডিসেম্বরে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে এবার এ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারে ভর্তি পরীক্ষায় তিনটি নতুনত্ব। এগুলো হচ্ছে- লটারি পদ্ধতি, ক্যাচমেন্ট কোটা বৃদ্ধি এবং ক্লাস্টারে আবেদনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩টির পরিবর্তে ৫টি হবে।

গত বছরও ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘ক্যাচমেন্ট (এলাকাভিত্তিক) কোটা’ ৪০ শতাংশ ছিল। এবার তা হবে ৫০ শতাংশ। আর ক্লাস্টারভিত্তিক লটারিতে ঢাকার শিক্ষার্থীরা একটির জায়গায় এবার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াবার জন্য প্রতি শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু বাধ্য হয়েই যোগ্যতার চাইতে ভাগ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছি আমরা।

অন্যান্য বছর প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং নবম শ্রেণিতে জেএসসি-জেডিসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনটি বিকল্প খতিয়ে দেখেছি। একটি হচ্ছে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। এমসিকিউ পদ্ধতির কথা চিন্তা করেছি। কিন্তু তাতেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হতো।

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সবার জন্য নিরাপদ হলেও সব শিক্ষার্থীর অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই এটি যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। সবার ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, আবার সংযোগেও সমস্যা আছে।

তিনি জানান, লটারিতে ভর্তির এ সিদ্ধান্ত সর্বোপরি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রচলিত ব্যবস্থায় শুধু অ্যাকাডেমিক অর্থে সব মেধাবী শিক্ষার্থীরা গুটি কয়েক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীভূত হয়।

ফলে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এক ধরনের অসাম্য তৈরি হয়। কোনো দেশের গুণগত শিক্ষা অর্জনে এটা বড় বাধা। এ পদ্ধতিতে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও সাম্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হব।

এ সময় তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেক সময় স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লটারির মাধ্যমে এ ভর্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বেশি ভর্তি ফি নেয়। অতিরিক্ত ফি নিলে ব্যবস্থা নেব। আমরা কঠোর হব।

অন্য ফি মওকুফ থাকবে : এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ফি বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই। শুধু ভর্তি ফি নেয়া যাবে। যেসব ফি মওকুফ করতে বলা হয়েছে সেটা এ ভর্তিতেও নেয়া যাবে না।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন আগের মতো নেয়া যাবে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে। ১০ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে।

তবে পহেলা জানুয়ারির বই উৎসব সামনে রেখে অন্য বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। যদিও স্বাস্থ্যবিধির জন্য আমরা এবার উৎসব করছি না। তবে শিশুদের কাছে বই পৌঁছানো হবে।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির আহ্বান : শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা না হলে ভর্তিচ্ছুদের বিশাল ভোগান্তি পোহাতে হয়। ছাত্রদের অনেকে মসজিদে গিয়ে রাত কাটায়। ছাত্রীদের সেই সুযোগও থাকে না।

ফলে তাদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। এর সঙ্গে আর্থিক ক্ষতি তো আছেই। এ পরিস্থিতির মধ্যে এবার করোনারভাইরাসের সংক্রমণের বাস্তবতা বিদ্যমান। এসব কারণে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি কার্যক্রম হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সুরক্ষিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আসছে না, এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।

আশা করি, সবাই গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নেবে, কেউ এর বাইরে থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তবুদ্ধির চর্চা কেন্দ্র। সমাজে অনেক ক্ষেত্রে তারা নেতৃত্ব দেয়। এ ক্ষেত্রেও তারা নেতৃত্ব দেবে। বঙ্গবন্ধু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্ত শাসন দিয়েছিলেন।

বাকিগুলোতে সেটা উল্লেখ নেই। তবে আইনে যাই থাকুক না কেন আমরা উপর থেকে কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না। সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা জনগণের স্বার্থবিরোধী কিছু করবে না বলে আশা করি।

মেডিকেলে আমরা সারা দেশে একসঙ্গে ভর্তি করতে পারছি। তাহলে গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করতে পারব না?

উপরে