শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গোল্ডেন মনিরের নানা অপকর্ম, অনুসন্ধানে তিন সংস্থাকে র‌্যাবের চিঠি,

প্রকাশের সময়: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০

currentnews

মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে তিনটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, রূপান্তর ও অর্থ পাচার অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ আমদানি ও চোরাচালানের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিলাসবহুল গাড়ির বিষয়ে বিআরটিএকে অনুসন্ধান করতে চিঠি দেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গোল্ডেন মনিরের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি, এনবিআর এবং বিআরটিএকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করায় তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়নি। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হচ্ছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গোল্ডেন মনির বিদেশে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। জালিয়াতি করে দুই শতাধিক প্লটের মালিক হয়েছেন। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ তিনি রূপান্তরও করেছেন। তাছাড়া ৩০ বছর ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। এসব অপরাধ অর্থ পাচারের বিভিন্ন ধারায় পড়ে। এসব অপরাধের বিষয়ে অনুসন্ধান করে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা সিআইডি। এ কারণে বিষয়টি সিআইডিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

গোল্ডেন মনির বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ শুল্ক না দিয়ে আমদানি করেছেন বা পাচার করেছেন। আয়কর বিবরণীতেও তিনি তার সম্পদের বিবরণ দেননি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মনির এনবিআরে যে আয়কর বিবরণী জমা দেন তাতে অডিট আপত্তি আছে। এরই মধ্যে তার ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাত্র ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন। এমনকি তার মালিকানাধীন গোল্ডেন গিয়ার ও মনির ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মূলধন এবং আয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয়কর বিবরণীতে দেখাননি। এছাড়া তিনি মনির বিল্ডার্স,গালফ অটো কারস লিমিটেড, গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার লিমিটেড এবং স্বদেশ প্রপার্টির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু স্বদেশ প্রপার্টিজ থেকে তিনি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সম্মানী হিসেবে আয়ের তথ্য দেখিয়েছেন ২৪ লাখ টাকা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তিনি কোনো সম্মানী নেয়ার তথ্য বিবরণীতে দেননি। গৃহ সম্পত্তি থেকে তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। কিন্তু এর সমর্থনে ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র বা ব্যাংকে ভাড়া গ্রহণের কোনো প্রমাণ জমা দেননি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, তার বাসা ও গ্যারেজে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি পাওয়া গেছে। এসব গাড়ির মালিকানা কার এবং গোল্ডেন মনির এগুলো কীভাবে ব্যবহার করছেন এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এ কারণে বিআরটিএকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এদিকে দুদক গোল্ডেন মনিরের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রীর ৬১০ কোটি টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত তিনি এই সম্পদ গড়েছেন। এর আগে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় ২০১২ সালে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় শিগগিরই দুদক চার্জশিট দেবে। দুদক বলছে, ভুয়া দাতায় মনির তার অবৈধ সম্পদ বৈধ করতেন।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে শনিবার গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রোববার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন। তাকে গ্রেফতারের পর সরকারের একাধিক সংস্থা তার অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

উপরে