শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘ম্যারাডোনার মাঝে গ্রেটনেস ছিল, স্পোর্টসম্যানশিপ ছিল না’

প্রকাশের সময়: ৮:০২ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০

currentnews

দিয়েগো ম্যারাডোনার আলোচিত সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন পিটার শিলটন।  ইংল্যান্ডের সাবেক এ গোলরক্ষক সর্বকালের সেরা ফুটবল তারকা ম্যারাডোনাকে ওই ঘটনার জন্য কখনও ক্ষমা করবেন না বলে অনেকবারই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  প্রতারণার জন্য ক্ষমা না চাওয়ায়, এখনও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকবার।

পুরো পৃথিবীকে শোকে ভাসিয়ে বুধবার চিরবিদায় নিয়েছেন ম্যারাডোনা। শোকাহতদের দলে আছেন শিলটনও। তবে ৩৪ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা ম্যারাডোনার বিতর্কিত ওই গোলের ক্ষত এখনও তরতাজা তার বুকে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনার করা সেই গোল ফুটবল ইতিহাসের গল্পগাঁথায় অমর হয়ে থাকবে। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ইংলিশ গোলরক্ষক শিলটনের চেয়ে অনেকটা লাফিয়ে বাঁ হাত বাড়িয়ে তিনি হেডের ভঙ্গিমায় খুঁজে নেন জাল। ইংলিশ খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের দাবি জানাতে থাকলেও সাড়া দেননি রেফারি আলি বিন নাসের।

ডেইলি মেইলে নিজের কলামে ৭১ বছর বয়সী শিলটন লিখেছেন, এটা ছিল পরিষ্কার ধোঁকা।

‘ম্যারাডোনার মৃত্যুতে কাঁদছে ফুটবলও’

‘ঘৃণা ভুলে জাদুকর ম্যারাডোনাকে মনে রাখো’

‘যদি মরে যাই…’

“এটি পরিষ্কার অপরাধ।  প্রতারণা।  উদযাপনের জন্য ছুটে যাওয়ার সময় সে দুইবার পেছনে ফিরে তাকিয়েছিল, রেফারির বাঁশি বাজে কি-না দেখার জন্য। কারণ সে জানত, সে কী করেছে। রেফারি ও দুই লাইন্সম্যান ছাড়া বাকি সবাই জানত।”

ওই গোলের চার মিনিটের মাথায় অবিশ্বাস্য এক গোল করেন ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। পরে সেটি ‘দ্য গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এর মর্যাদা পায়।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে শিলটন ইংল্যান্ডের হারের জন্য প্রথম গোলটিকেই দায় দিচ্ছেন।

‘কে কী বলছে আমি জানি না, ওই গোলটিই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ জিতিয়েছিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সে দ্বিতীয় দুর্দান্ত গোলটি করেছিল। কিন্তু আমরা তখনও কয়েক মিনিট আগে কী ঘটেছিল, সেই ভ্রমে ছিলাম…এটা আমাকে বছরের পর বছর জ্বালিয়েছে। আমি এখন সেটা নিয়ে মিথ্যা বলতে পারব না।  তার মধ্যে গ্রেটনেস ছিল, কিন্ত দুঃখজনক হলো কোনো স্পোর্টসম্যানশিপ ছিল না…মেক্সিকোতে ওই দলে খেলেছে ইংল্যান্ডের প্রায় সব খেলোয়াড়ই এমনই মনে করে।’

“ফুটবল মাঠে, খেলোয়াড়রা কিছু জিনিস করে যেগুলো তাদের করা উচিত নয়।  এটা মুহূর্তের উত্তেজনায় হয়ে যায়।  তবে ওটা যদি ইংল্যান্ড দলের কেউ করত, আমি চাইতাম যেন সে পরে সেটা স্বীকার করে।  আশা করি, এটা ম্যারাডোনার শ্রেষ্টত্বকে কলুষিত করবে না।”

উপরে