বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

২২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে টাকা তোলার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ৮:৪১ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৬, ২০২০

currentnews

ঝালকাঠি পৌরসভার ২২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মেয়র মো. লিয়াকত আলী তালুকদারের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকের ভবিষ্যত তহবিল হিসাব থেকে ১৮ লাখ ২১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২২ কর্মচারীর মধ্যে সাবেক এক মেয়রের স্ত্রী ও শ্যালক রয়েছেন। এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর এক জরুরি সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পৌর মেয়রের নির্দেশে ১১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ২৩ নভেম্বর মেয়রের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যত তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) নামে রূপালী ব্যাংকে একটি হিসাব রয়েছে। এতে কর্মচারীদের বেতনের ১০% সহ মোট ২০% অর্থ এ হিসাবে জমা রাখা হয়। যা কর্মচারীরা চাকরি থেকে অবসর নেয়ার সময় পেয়ে থাকেন। তবে কর্মচারীরা এ তহবিল থেকে অবসরের আগেও লোন নিতে পারেন। ব্যাংকের হিসাব থেকে টাকা উঠাতে চেকে মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন।

মেয়র বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে ট্রাক হেলপার মিলন হাওলাদার ও মর্তুজ আলী মোট ৫১টি চেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা তুলেছেন। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সালাম সিকদার ১০ চেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা তুলেছেন। টিকাদানকারী আমিনুল ইসলাম, সীমা রানী দাস, সুলতানা পারভীন ও রাশিদা খানম ১৩ চেকে মোট ২ লাখ ৫১ হাজার ১০০ টাকা তুলেছেন।

কসাইখানা পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন ৫টি চেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা তুলেছেন। রোলার চালক ফিরোজ খান, ইয়াসিন আরাফাত ৭ চেকে মোট ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা তুলেছেন। নিম্নমান সহকারী ফোরকান আমিন ৪ চেকে ৩৬ হাজার টাকা তুলেছেন। অফিস সহায়ক মোরশেদা খানম, চান ও জাহাঙ্গীর আলম ৭ চেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা তুলেছেন। স্বাস্থ্য সহকারী রিয়াজুল ইসলাম ২ চেকে ৩৬ হাজার তুলেছেন।

ট্রাকচালক শাকিব খান ২ চেকে ১৬ হাজার টাকা তুলেছেন। সাবেক মেয়রের স্ত্রী ফটোকপি অপারেটর সামসুন্নাহার মারিয়া ১ চেকে ২৮ হাজার টাকা তুলেছেন। কার্য সহকারী নাজমুল হাসান ১ চেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলেছেন। বিদ্যুৎ লাইনম্যান সোহেল রানা ১ চেকে ১৮ হাজার টাকা তুলেছেন।

পাম্প চালক ইকবাল হোসেন ও সোহেল খান (সাবেক মেয়রের শ্যালক) ১৪ চেকে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং বিল ক্লার্ক সাহাবউদ্দিন ৩ চেকে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। আমার স্বাক্ষর জাল করে সর্বমোট উঠানো টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা।

মেয়র আরও বলেন, সম্প্রতি অফিস সহায়ক জাহাঙ্গীর আলম জাল স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংকে টাকা উঠাতে গেলে এ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৭ এপ্রিল ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের হিসাব বিবরণী রূপালী ব্যাংক থেকে উঠালে বিবরণীতে ১০৪টি চেকে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে উল্লেখিত টাকা উঠানোর ঘটনা ধরা পড়ে।

পৌর সচিব শাহীন সুলতানা বলেন, প্যানেল মেয়র মাহবুবুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যত তহবিল থেকে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করার ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যত ও আনুতোষিক তহবিল হিসাবের ব্যাংক বিবরণীতে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে কর্মচারীরা জানিয়েছেন ট্রাক হেলপার মিলন হাওলাদার ও মর্তুজ আলী চেকে মেয়রের স্বাক্ষর করিয়ে এনে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে হেলপার মিলন ও মর্তুজ আলী জানান, আমাদের চেকে মেয়রের স্বাক্ষর এনেছি। বাকিরা নিজেদের বাঁচাতে আমাদের নাম বলছেন।

২৬ নভেম্বর পৌরসভার জরুরি সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর, সাময়িক বরখাস্ত এবং কেন তাদের স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না সাতদিনের মধ্যে জবাব চেয়ে সর্বসম্মতিক্রমে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সালাম সিকদার বলেন, এসব চেকে মেয়র স্বাক্ষর করলেও পৌরসভার নথিতে তা উল্লেখ না থাকায় তিনি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

উপরে